সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

ভূমিকা: মহান আল্লাহর অগণিত শোকর আদায় করছি। যিনি মহাবিশ্বের সবকিছু সৃষ্টি করেছেন, লালন পালন করছেন এবং নিয়ন্ত্রণ করছেন। মহা বিশ্বের সকল সৃষ্টি তার বিধান নিয়ম-কানুন মেনে চলছে। তাই সৃষ্টির মধ্যে নেই কোন অনিয়ম ও অনধিকার চর্চা। তাদের মধ্যে রয়েছে শৃংখলা ও শান্তি। তেমনিভাবে মানব জাতিও যদি তারই বিধান মেনে চলে তাহলে থাকবেনা ভেদা-ভেদ বিশৃংখলা অনধিকার চর্চা। সবাই বসবাস করবে শান্তিতে, সবাই থাকবে ভ্রাতৃত্ত্ব বন্ধনে। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন দয়া করে শ্রমজীবি মানুষের জন্য আল কুরআনে একটি শ্রমনীতি দান করেছেন। যার মধ্যে কেয়ামত পর্যন্ত দল মত জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সকল শ্রমজীবি মানুষের অধিকার ও সমস্যার অদ্বিতীয় সুন্দর সমাধান রয়েছে।

৫০ বছর পূর্তির ইতিহাস লেখার জন্য আমাকে দায়িত্ব নিতে হলো তবে লেখার ব্যাপারে আমি খুবই অপরিপক্ক। আমার আবার এ প্রবন্ধ লেখার জন্য কারো সাহায্য নিয়ে তত্ত্ব সংগ্রহ করবো এমন সহকর্মী বেঁচে নেই, ২/১ জন বেঁচে থাকলেও কোন তথ্য দেয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই আমার স্মরণে যতটুকু আছে তা দিয়ে এ প্রবন্ধ লেখা শুরু করছি। প্রথমে আমি স্মরণ করছি এই ফেডারেশন গঠনে যারা প্রাথমিক ভূমিকা পালন করেছেন। ১. ব্যারিষ্টার কুরবান আলী ২. ব্যারিষ্টার আক্তারুদ্দিন ৩. ড. গোলাম সরোয়ার ৪. জনাব সাইয়্যেদ শহীদ শফিউল্লাহ (ফেনী) ৫. জনাব গোলাম মোস্তফা ৬. জনাব মাহবুবুর রহমান, আব্দুল ওয়াহেদ ও জনাব মফিজ উদ্দিন। আমি তাদের সকলের জন্য মহান আল্লাহর কাছে মাগফিরাত কামনা করছি।

ঐতিহাসিক পটভূমি: বৃট্রিশ ভারত ও পাকিস্তানে সমাজতন্ত্র ও সেকুলার দুটি ধারায় শ্রমিক আন্দোলন চলছিল। তবে সমাজতন্ত্র ভারতসহ সারা বিশ্বের শ্রমিক আন্দোলন গ্রাস করে নিয়েছিল। শ্রমজীবি মানুষকে ধোঁকা দেওয়া ও উত্তেজিত করার জন্য শ্রমিক ময়দানে স্লোগান ছেড়ে দিয়েছিল “দুনিয়ার মজদুর এক হও, শ্রমিক রাজ কায়েম কর” ট্রেড ইউনিয়ন হচ্ছে স্কুল অফ কমিউনিজম।

শ্রমজীবি মানুষ তাদের শ্লোগানে বিভ্রান্ত হয়ে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তাদের সকল স্বাধীনতা ও অধিকার হারিয়ে রাষ্ট্রীয় গোলামে পরিণত হলো। ব্যক্তি মালিকানায় সামান্য যে স্বাধীনতাটুকু ছিল, অধিকার আদায়ের সুযোগ ছিল, রাষ্ট্রীয় মালিকানায় এসে সেটুকু হারিয়ে ফেললো। ব্যক্তি মালিকানা মিল-কারখানায় মালিকের বিরুদ্ধে অধিকার আদায়ের সংগ্রাম করা খুবই সহজ ছিল। কিন্তু সমাজতন্ত্রী দেশে সকল মিল-কারখানার মালিক রাষ্ট্র। তাই তাদের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের আন্দোলন করা মৃত্যু সমতুল্য। সমাজতন্ত্র ও পুঁজিবাদ অসহায় শ্রমজীবি মানুষকে মুক্তি দিতে পারেনি। কারণ মানব রচিত আইন ভ্রান্ত ও পক্ষপাত দুষ্ট। তাই সারা বিশ্ব যখন সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের বিষাক্ত ছোবলে দিশেহারা, ব্যক্তি মালিকানা খতম করে শ্রমিক রাজ কায়েম ও ইসলামের বিরুদ্ধে বিষোধগার চলছিল তখন মুসলিম রাষ্ট্র সমূহ তাদের বুদ্ধিজীবি ও আলেম ওলামাগণ সম্পূর্ন নিরব ছিল, মনে হচ্ছিল শ্রমজীবি মানুষের জন্য ইসলামে কোন মুক্তির পথ নেই। তাই বিশ্বে সমাজতন্ত্রবাদীরাই শ্রমিক ময়দান একচেটিয়া দখল করে নিল।

সূচনা: এমন এক ঐতিহাসিক মূহুর্তে ইসলামী আন্দোলনের দুই জন খ্যাতনামা ব্যারিস্টার কোরবান আলী ও ব্যারিস্টার আক্তার উদ্দিন শ্রমজীবি মানুষেকে ইসলামী আদর্শের দিকে আকৃষ্ট করার জন্য ১৯৬৫ ও ৬৭ সনে শ্রমজীবি মানুষের মধ্যে সেবামূলক কাজ ও আইনী সহযোগিতা প্রদান করতে শুরু করে । তাদের সেবামূলক কাজের সংবাদ শ্রমিক ময়দানে ছড়িয়ে পড়লো, আদমজী, ডেমরা, নারায়নগঞ্জ, তেঁজগাও ও টঙ্গি শ্রমিক অঞ্চল থেকে হাজার হাজার শ্রমিক তাদের সমস্যা নিরসন ও আইনী সহায়তার জন্য দুই ব্যারিষ্টারের কাছে ভীড় জমাতে আরম্ভ করে। ব্যারিষ্টারদ্বয়ের সেবামূলক কাজ শ্রমজীবী মানুষের কাছে আকর্ষনীয় হয়ে উঠে। বিশেষ করে এদেশে কোন ব্যারিষ্টার ইতিপূর্বে শ্রমজীবি মানুষের জন্য সেবামূলক কাজ দিয়েছেন এবং তাদের সমস্যায় এগিয়ে আসছেন এমন কোন দৃষ্টান্ত ছিল না। তাই দুজন ব্যরিষ্টারকে শ্রমজীবি মানুষের নেতা হিসাবে পেয়ে তারা খুর্ব উৎসাহিত হয়েছেন এবং তারা মনে করছেন যে কোন সমস্যায় মালিকদের সাথে স্বার্থকভাবে ব্যারিস্টারদ্বয় মোকাবেলা করতে পারবে।

শ্রমজীবি মানুষগণ তাদের নি:স্বার্থ সেবা পেয়ে ব্যারিষ্টারদ্বয়কে শ্রমিক ইউনিয়ন ও ফেডারেশন করার জন্য উৎসাহিত করতে থাকে। ইতোমধ্যে ১৯৬৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে মংলা বন্দরে শ্রমিক ও কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমস্যা দেখা দেয়, উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং ধর্মঘট শুরু হয়ে যায়। ব্যারিষ্টার কুরবান আলী সাহেব কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিকদের মধ্যে সমঝোতা করে দেন এবং শ্রমিকদের স্বার্থ হাছিল করতে সক্ষম হয়। এতে ব্যারিষ্টার সাহেবের নেতৃত্ব শ্রমজীবি মানুষদের মাঝে বেড়ে যায়। শ্রমিকদের আগ্রহ ও পরামর্শে ১৯৬৮ সালে ২৩ মে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন গঠিত হয়। যার রেজিষ্ট্রেশন নাম্বার ছিল জাতীয় ফেডারেশন-৩। যার প্রথম সভাপতি হয়েছিলেন ব্যারিষ্টার কুরবান আলী ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন ড. গোলাম সরোয়ার (পূর্বপাক ইসলামী ছাত্র সংঘের সভাপতি ছিলেন)।

অফিস: শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের প্রথম অফিস ছিল ১৫ নম্বর নয়া পল্টন। প্রথম বৈঠকে যেসব সম্মানীত ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন তারা হচ্ছেন- মাওলানা একে এম ইউসুফ, মাষ্টার শফিকুল্লাহ, ব্যারিস্টার আক্তার উদ্দিন, ব্যারিষ্টার কোরবান আলী, ড. গোলাম সরোয়ার, শহীদ সাইয়্যেদ শফিউল্লাহ ( ফেনী), আব্দুল ওয়াহেদ (তেজগাঁও), মাহবুবুর রহমান-সেক্রেটারী আর্ন্তাজাতিক বাটা কোম্পানী (টঙ্গি), গোলাম মোস্তফা (ঢাকা) ও মফিজ উদ্দিন। উক্ত বৈঠকের স্থান ছিল সিদ্দিক বাজার কাউছার হাউজ। পরবর্তীকালে বাংলাদেশ হওয়ার পর ১৯৫৯ সালে শিল্প সম্পর্ক অধ্যাদেশ ও ১৯৭৭ সালে শিল্প সম্পর্ক বিধিমালার বিধান মোতাবেক বাংলাদেশ সরকারের শ্রম দপ্তর থেকে ১৯৫৯ সালের ১৫ মে দ্বিতীয়বার নিবন্ধন লাভ করে যার রেজিষ্টেশন নম্বর বাংলাদেশ জাতীয় ফেডারেশন (বা.জা.ফে-০৮)।

উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য:
১. ইসলামী শ্রমনীতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শ্রমজীবি মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা।
২. আল্লাহর দেওয়া বিধান অনুযায়ী মুহাম্মদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নির্দেশিত পথে ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা কায়েম করা।
৩. শ্রমিক সাধারনের মানবিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সংরক্ষণ করা এবং সাংস্কৃতিক ও নৈতিক উন্নতি সাধন করা।
৪. শ্রমিকদের মধ্যে ইসলামের প্রতি অবিচল বিশ্বাস, পারস্পরিক ঐক্য, শৃঙ্গখলা, ভ্রাতৃত্ব, সহযোগিতা ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা এবং অন্যায়ের প্রতিরোধের মনোভাব সৃষ্টি করা।
৫. শ্রমিকদের চাকুরীর অধিকার, মর্যাদা স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষা করা।
৬. শ্রমিক সাধারণের জন্য আইনের সহযোগিতা সহজ লভ্য করা।
৭. আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার সুপারিশ ও কনভেনশন প্রয়োগ করার চেষ্টা করা।
৮. অনুমোদিত ইউনিয়ন সমূহের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।
৯. শ্রমিকদের মধ্যে সমাজ, রাষ্ট্র ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রতি দায়িত্ববোধ সৃষ্টি ও উৎপাদন বৃদ্ধির মনোভাব জাগ্রত করা।
১০. মত প্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, সংগঠন ও সমাবেশ করার অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।
১১. অন্তর্ভূক্ত ইউনিয়নগুলির ধর্মঘট করার আইনানুগ অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।
১২. পেশা উপযোগী ও নৈতিকতা সম্পন্ন শিক্ষা এবং প্রশিক্ষনের মাধ্যমে শ্রমিকদের পেশাগত যোগ্যতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি করা।
১৩. ন্যূনতম মৌলিক চাহিদার ভিত্তিতে শ্রমিকদের মজুরী নির্ধারণ ও দৈনন্দিন জীবনের মান উন্নয়নের চেষ্টা করা এবং প্রতিষ্ঠানের লভ্যাংশ প্রদানের আইন বাস্তবায়নের চেষ্টা করা।

প্রথমে যে সমস্ত ইউনিয়ন নিয়ে ফেডারেশন গঠিত হয় তা নিম্নে দেওয়া হল:
১. সিরামিক ইন্ডাষ্টিজ টঙ্গি
২. কাদেরিয়া জুটমিল টঙ্গি
৩. পেপার এন্ড পালস টঙ্গি
৪. গেকো ঔষুধ কোম্পানী তেজগাঁও
৫. দেসকো লেদার কোম্পানী টঙ্গি

দুই বছরের মধ্যে শ্রমিক কল্যাণের কাজ বিস্তার লাভ করে। ঢাকার পার্শ্ববর্তী এলাকায় যেমন: ডেমরা, আদমজী, নারায়নগঞ্জ, টঙ্গি ও তেজগাঁও। প্রথম বছরে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কয়েকটি শিল্পে সিবিএ নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেন তাদের মধ্যে রয়েছে ডেমরা লতিফ বাওয়ানী জুটমিল, টঙ্গি সিরামিক ইন্ডাষ্ট্রিজ, কাদেরিয়া জুটমিল, তিব্বত ইন্ডাষ্ট্রিজ ও বাটা জুতার কোম্পানী এবং এসব কারখানায় শ্রমিক কল্যাণের প্রতিনিধি নির্বাচনে বিজয় লাভ করে। ১৯৬৯ সালে ঢাকা মহানগরী রিক্সা শ্রমিক কল্যাণ ইউনিয়ন গঠিত হয়। যার সদস্য সংখ্যা ছিল ১৬ হাজার। ১৯৭০ সালের মার্চ মাসে ঢাকা শহর রিক্সা শ্রমিক কল্যাণের পক্ষ থেকে রিক্সা শ্রমিকদের উপর নির্যাতন ও দাবী দাওয়া আদায়ের লক্ষ্যে ঢাকায় ধর্মঘট পালিত হয়। যে হরতালে ঢাকায় একটি রিক্সাও চলেনি। যা পত্র পত্রিকায় হেড লাইন এসেছিল “জামায়াতে ইসলামীর প্রথম হরতাল”। রিক্সা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ছিলেন জনাব আব্দুস সাত্তার। দৈনিক সংগ্রামের প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সেক্রেটারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হারুনুর রশিদ খান।

টঙ্গির শিল্প এলাকার নেতৃত্বে ছিলেন জনাব গোলাম মোস্তফা, জনাব মাহবুবুর রহমান যিনি আন্তর্জাতিক বাটা সু-কোম্পানীর কয়েকবারের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বাংলাদেশ হওয়ার পরেও সেখানে শ্রমিক কল্যাণের পূর্ণপ্যানেলে বিজয় লাভ করে এবং জনাব মফিজ উদ্দিন বাংলাদেশ হওয়ার পরেও আশ্রাফ জুটমিলের সিবিএ সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তেজগাঁও সরকারী বীজি প্রেসের সভাপতি ছিলেন জনাব আব্দুল ওয়াহেদ এবং ঢাকার বিখ্যাত কাওরান বাজারের কমিটির তিনি সভাপতি ছিলেন। তেজগাঁও কোহিনুর ক্যামিকেল কোম্পানীর সিবিএ এর সেক্রেটারী ছিলেন শহিদুল আলম। পাকিস্তানের সেরা জুট মিল আদমজীর কাজের সূচনা করেন জনাব আবুল কালাম আজাদ। পরবর্তী পর্যায়ে মরহুম মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহ ভাই যোগদান করেন। তিনি বদলী শ্রমিক হিসাবে আদমজী জুট মিলে কাজ করতেন। তখনন আদমজীতে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ৪০ টি ইউনিট ছিল।

ডেমরায় কাজের সূচনা করেন জনাব মেমিনুল হক এবং ডেমরায় লতিফ বাওয়ানী জুট মিলে বাংলাদেশ হওয়ার পরেও পুর্ণপ্যানেলে বিজয় লাভ করে। নারায়নগঞ্জ ড্রেজারে কাজ আরাম্ভ করেন জনাব নুরুল হক। পরবর্তীতে তিনি শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি হয়েছিলেন। অল্প সময়ের মধ্যে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সুনাম, সুখ্যাতি ও সেবামূলক কাজ চতুরদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং তার প্রভাব শ্রমিকদের মধ্যে অব্যাহত থাকে।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ব্যারিষ্টার কুরবান আলী ও ড. গোলাম সরোয়ার বিদেশে চলে যান। ১৯৭৩ সনে এ্যাড. আনোয়ার হোসেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মনোনিত হন এবং অধ্যাপক হারুনুর রশিদ সেক্রেটারী মনোনিত হন। সারাদেশে জেলা ও থানা পর্যায়ে শ্রমিক কল্যাণের কাজ সুসংগঠিত করার জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করে কাজ শুরু করা হয়। বাংলাদেশ হওয়ার পরেও উক্ত শিল্প কারখানায় আমাদের কাজ অব্যাহত ছিল এবং আমরা সিবিএ নির্বাচনে অংশ গ্রহন করে বিজয় লাভ করি।

১৯৭৩ সন থেকে পরিকল্পনা গ্রহন করে সারাদেশে বিশেষ করে জেলা ভিত্তিক ও মহকুমা ভিত্তিক সংগঠন কায়েমের চেষ্টা করা হয়। বাংলাদেশ হওয়ার পর চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বশীল নিযুক্ত করা হয় জনাব এম এ তাহের ভাইকে আর খুলনায় জনাব মোল্লা হারুনুর রশিদ, রাজশাহীতে জনাব আবুল কালাম আজাদ এবং ঢাকা বিভাগে জনাব হারুনুর রশিদ খান।

শত বাধা বিঘ্ন অতিক্রম করে শ্রমিকদের মধ্যে ইসলামী শ্রমনীতির আন্দোলনের কাজ এগিয়ে চলে। শ্রমিক ময়দানে নাস্তিক্যবাদী সমাজতন্ত্র বাদীদের আন্দোলনের ভীত নড়ে যায়। শ্রমজীবি মানুষ বিশ্বাস করতে আরাম্ভ করে ইসলামী শ্রমনীতির মাধ্যমে তাদের সকল সমস্যার সমাধান ও নিশ্চিত মুক্তি রয়েছে, ধীরে ধীরে তারা ইসলামী আদর্শের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। স্বাভাবিক অবস্থা দেশে ফিরে আসলে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন শ্রমিক ময়দানে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হবে ইনশাআল্লাহ।

বর্তমানে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সদস্য সংখ্যা ১৭৫০, কর্মী ২৩২৯৮, সাধারণ সমর্থক ৩৫৩৭৮৮, ইউনিট সংখ্যা ৩৪৩৪, লাইব্রেরী ১২৪১, বই সংখ্যা ৭০২০৫, ট্রেড ইউনিয়ন সংখ্যা ২১০। ফেডারেশনের শাহাদাত বরণকারী কর্মীর সংখ্যা ২১, ১৯৭১ সনে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের প্রথম শহীদ ফেনীর সাইয়্যেদ শফিউল্লাহ।

শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন দুইটি জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে আন্দোলন করেছিল একটি হচ্ছে লেবারকোর্ট ৯৪, যার মাধ্যমে শ্রমিক ঐক্য গঠন করে শ্রমজীবি মানুষের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে সারাদেশব্যাপী আন্দোলন গড়ে তোলে। এ উপলক্ষ্যে সারাদেশব্যাপী নেতৃবৃন্দের সফর হয়েছে। বর্তমানে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের চেষ্টায় শ্রমিক ঐক্য গঠন করা হয়েছে যার মধ্যে সদস্য সংখ্যা ১৬ টি ফেডারেশন অন্তর্ভূক্ত আছে। উক্ত ফেডারেশন গুলো ঐক্যবদ্ধভাবে শ্রমিকদের সমস্যা ও স্বার্থ আদায় করার জন্য আন্দোলন রয়েছে।

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাথে ১১ টি জাতীয় ভিত্তিক ইউনিয়ন আছে:
১. বাংলাদেশ রেলওয়ে এমপ্লয়ীজলীগ-সদস্য সংখ্যা-২০০০০ হাজার, আমেরিকার সিআইএ জাতীয় ভিত্তিক ইউনিয়ন গঠন করে। পাকিস্তানের সময় এ ইউনিয়নের সকল কমিটির সদস্যবৃন্দ ইউনিয়সহ শ্রমিক কল্যাণে যোগদান করে।
২. বাংলাদেশ কৃষিজীবী শ্রমিক ইউনিয়ন।
৩. চাতাল শ্রমিক ইউনিয়ন।
৪. ইসলামী ব্যাংক কর্মচারী ইউনিয়ন।
৫. জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন।
৬. রিক্সা শ্রমিক ঐক্য পরিষদ।
৭. ব্যক্তিমালিকানাধীন স্টীল রি-রোলিং শ্রমিক ইউনিয়ন।
৮. বাংলাদেশ স্থল বন্দর শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন।
৯. ইউসিবিএল শ্রমিক ইউনিয়ন।
১০. ব্যাংক কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশন।
১১. বাংলাদেশ টিএনটি শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন।
১২. বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন।

শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা দেশের বিভিন্ন স্থানে Industrial Relation Institute (IRI) এর (শিল্প সম্পর্ক শিক্ষায়াতন) ট্রেনিং গ্রহণ করেছে এবং শ্রমিক কল্যাণ অফিসেও তাদের প্রশিক্ষণ কোর্স কয়েক বছর চলছিল। কেন্দ্র, বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে ফেডারেশনের শিক্ষা শিবির ৫/৭ দিন ব্যাপী চলতো। যার মাধ্যমে শ্রমিক আইন ও নৈতিক প্রশিক্ষণ দেয়া হতো।

শিক্ষা শিবির: বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন তার কর্মী ও সমর্থকদেরকে নৈতিক ও শ্রম আইন সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য ৫/৭ দিন ব্যাপী শিক্ষা শিবির করা হতো এখনও চলছে। এসব শিক্ষা শিবিরে ৫০ থেকে ৩০০ শত শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকতো। এখানে শিক্ষক হিসাবে আইআরআই শিক্ষকবৃন্দ অতিথি হিসাবে থাকতেন এবং প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকতেন অধ্যাপক গোলাম আযম, মাওলানা একেএম ইউসুফ, শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, শহীদ আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ, শহীদ কামারুজ্জামান, শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লা।

First Labor Court: (প্রথম শ্রম আদালত): শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সেক্রেটারী হারুনুর রশিদ খান দশ বছর ধরে প্রথম শ্রম আদালতের সদস্য ছিলেন, প্রায় ২৫০ দিন বিচার এজলাসে উপস্থিত থেকে শ্রমজীবি মানুষের মামলায় ন্যায় বিচার লাভের ব্যাপারে বলিষ্ঠা ভূমিকা পালন করেছেন।

International Labor organisation (ILO) আন্তর্জাতিক শ্রমসংস্থা জাতি সংঘের একটি অঙ্গ সংগঠন। যারা সারা দুনিয়ার মালিক শ্রমিকদের সমস্যা দেখেন এবং সমন্বয় করেন। এদের সদস্য হচ্ছে পৃথিবীর বিভিন্ন রাষ্ট্র। শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কাজের তৎপরতা জানার জন্য আমাদেরকে পত্র দিতেন ১৯৭৯ সনে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি এ্যাড. আনোয়ার হোসেন আইএলও (ওখঙ) এর সাধারণ সভায় অংশ গ্রহণ করেছেন।

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের নিজস্ব প্রকাশনী রয়েছে:
যার বইয়ের তালিকা: ১. পরিচিতি ২. গঠনতন্ত্র ৩. শ্রমিকের অধিকার ৪. ইসলামী শ্রমনীতি ৫. রাসুল (সা:) এর ঐতিহাসিক ভাষন ৬. শ্রম আইন ও শ্রমিক কল্যাণ ৭. ট্রেড ইউনিয়ন কাজের পদ্ধতি ৮. ইসলামী সমাজে শ্রমজীবি মানুষের মর্যাদা ৯. আল কুরআনের পাতায় শ্রম শ্রমিক ও শিল্প ১০. তৃণমূল পর্যায়ে ট্রেড ইউনিয়ন ও ইসলামী আন্দোলন ১১. ইসলামী আন্দোলনে শ্রমজীবি মানুষের দায়িত্ব কর্তব্য ১২. ট্রেড ইউনিয়নের প্রাথমিক গাইড ১৩. ইসলামী শ্রমনীতির সুফল।

International Islamic confederation of labour (IICL) (ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক কনফেডারেশন অব লেবার) এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন মিশরের জামালুল বান্না আর সহ-সভাপতি হয়েছিলেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি জনাব এ্যাড. শেখ আনছার আলী এবং অধ্যাপক মজিবুর রহমান ও সেক্রেটারী ছিলেন সিরিয়ার সাইয়্যেদ আল হাসান। তাদের কয়েকটি আন্তর্জাতিক কনফারেন্স হয়েছিল এবং বাংলাদেশ তাতে অংশ গ্রহণ করে এ মুসলিম দেশগুলোতে ইসলামী শ্রমনীতির ভিত্তিতে শ্রমিক আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য উদ্যোগ গ্রহন করা হয়। এর কেন্দ্রীয় অফিস জেনেভায়। এ সংগঠন আইএলও কর্তৃক স্বীকৃত।

বর্তমান বিশ্বে মুসলিম দেশগুলির মধ্যে ৩টি দেশে ইসলামী শ্রমনীতির আন্দোলন চলছে।
১. তুরস্ক ২. পাকিস্তান ৩. বাংলাদেশ

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন এর কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সেক্রেটারীবৃন্দ:

কার্যকাল সভাপতি সেক্রেটারী
১৯৬৮-১৯৭২ মরহুম ব্যারিষ্টার কুরবান আলী ড. গোলাম সরওয়ার
১৯৭৩-১৯৭৮ এড. এ বি এম আনোয়ার হোসেন অধ্যাপক হারুনুরর রশিদ খান
১৯৭৯-১৯৮০ এড. এবি এম আনোয়ার হোসেন এড. শেখ আনছার আলী
১৯৮১-১৯৮২ মরহুম মো: নুরুল হক এড. হাতেম আলী তালুকদার
১৯৮২-১৯৮৫ মরহুম মো: নুরুল হক মরহুম শাহ আলম চৌধুরী
১৯৮৫-১৯৮৬ মরহুম মো: নুরুল হক এম. এ.গণি
১৯৮৭-১৯৮৯ মরহুম মাষ্টার শফীকউল্লাহ (সাবেক এমপি) অধ্যাপক হারুনুর রশিদ খান
১৯৯০-২০০১ এ্যাড. শেখ আনছার আলী (সাবেক এমপি) অধ্যাপক হারুনুর রশিদ খান
২০০২-২০০৩ অধ্যাপক মুজিবুর রহমান (সাবেক এমপি) অধ্যাপক হারুনুর রশিদ খান
২০০৪-২০০৮ অধ্যাপক মুজিবুর রহমান (সাবেক এমপি) মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম
২০০৯-২০১৬ অধ্যাপক মুজিবুর রহমান (সাবেক এমপি) অধ্যাপক হারুনুর রশিদ খান
২০১৭-বর্তমান অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার (সাবেক এমপি) অধ্যাপক হারুনুর রশিদ খান

একনজরে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের অর্জন:
১. শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে ইসলামী জীবন ব্যবস্থার চেতনা জাগ্রত করে।
২. বাংলাদেশে প্রথম ইসলামী শ্রমনীতির ভিত্তিতে ট্রেড ইউনিয়নের সূচনা করে।
৩. ইসলামের পতাকাবাহী একমাত্র সরকারের রেজিষ্ট্রিকৃত ফেডারেশন যার রেজি নং বা.জা.ফে-০৮।
৪. কুরআন হাদীসের আলোকে শ্রমিকদের চরিত্র গঠনের চেষ্টা।
৫. লক্ষ লক্ষ শ্রমিকদের নিকট ইসলামী শ্রমনীতির দাওয়াত পৌছানো হয়েছে।
৬. শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন সকল শ্রমজীবি মানুষের নিকট পরিচিত একটি সংগঠন।
৭. শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে দ্বন্ধ নয় সৌহার্দ্য সৃষ্টি করে।
৮. আইএলও এর সাধারণ সভায় অংশ গ্রহণ।
৯. টিসিসির সদস্য পদ লাভ।
১০. প্রথম লেবার কোর্টে সদস্য হিসাবে অংশ গ্রহন।
১১. ইসলামী শ্রমনীতির আন্তর্জাতিক বলয় সৃষ্টিতে অবদান।
১২. ২১০ টি রেজিষ্টার ট্রেড ইউনিয়ন লাভ।
১৩. জাতীয়ভাবে শ্রমিক ময়দানে শ্রমিক কল্যাণে স্থান চতুর্থ।
১৪. প্রত্যেক থানায় ও উপজেলায় শ্রমিক কল্যাণের শাখা গঠন।
১৫. শ্রমিক কল্যানের কর্মী ২৩২৯৮, সাধারণ সদস্য ৩৫৩৭৮৮, ট্রেড ইউনিয়ন সদস্য ৯১৮০৬।
১৬. শ্রমিক ময়দানে ইসলামের জন্য শাহাদাতের নজরানা পেশকারী সংগঠন।
১৭. হাজার হাজার শ্রমিককে শ্রম আইন ও নৈতিক প্রশিক্ষন দেওয়া হয়েছে।
১৮. হাজার হাজার শ্রমিককে কুরআন শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।
১৯. শ্রমিকদেরকে কাজে ফাঁকি না দেওয়া নৈতিক শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।
২০. মালিকের কাজকে আমানত হিসাবে আদায় করার প্রশিক্ষন দেওয়া হয়েছে।
২১. মালিক পক্ষ শ্রমিকের অধিকার আদায় না করা দুনিয়া ও আখেরাতের ক্ষতি শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।

সাংগঠনিক স্তর: বাংলাদেশ হওয়ার পর বিভাগ ছিল ৪টি ১. ঢাকা ২. চট্টগ্রাম ৩. রাজশাহী ৪. খুলনা। বর্তমানে নতুন বিভাগ হয়েছে সিলেট, রংপুর, বরিশাল, ময়মনসিংহ, সর্বমোট ৮টি বিভাগ রয়েছে এবং প্রত্যেক বিভাগে সভাপতি সেক্রেটারীসহ বিভাগীয় কমিটি রয়েছে এবং ১১ টি মহানগরী রয়েছে, প্রতিটি মহানগরীকে সাংগঠনিক বিভাগ হিসাবে গণ্য করা হয় এবং মহানগরী সভাপতি বিভাগীয় সভাপতির মর্যাদা লাভ করে থাকে। বাংলাদেশ হওয়ার পর জেলা ছিল ১৭ টি বর্তমানে ৭৮ টি জেলা রয়েছে এবং প্রত্যেক জেলায় জেলা কমিটি রয়েছে।

আন্তর্জাতিক সেমিনার: পাকিস্তান National labour Federation এর উদ্যোগে ১৯৯৩ সনের এপ্রিল মাসে ইসলামিক মডেল অব মুভমেন্ট নামের সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে কেন্দ্রীয় সভাপতি এড. শেখ আনছার আলী অংশ গ্রহন করেন।

জাতীয় ত্রিপক্ষীয় প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ গ্রহন- শ্রম ও জনশক্তি মন্ত্রনালয় এবং আইএলও এর যৌথ উদ্যোগে Development Of Sound labour Relations and Mutual Understanding এই বিষয়ের উপর ১৯৯৩ সালে আয়োজিত ত্রিপক্ষীয় প্রশিক্ষন কোর্সে-সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক হারুনুর রশিদ খান এবং তৎকালীন খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মিয়া গোলাম পরওয়ার শ্রমিক প্রতিনিধি হিসাবে অংশ গ্রহণ করেন।

আইআইসিএল এর সম্মেলনে ফেডারেশনের সভাপতির অংশ গ্রহন: ১৯৯৯ সনের ১০-১১ জুন জেনেভায় International Islamic Confederation Of Labour (IICL) এর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি এডভোকেট শেখ আনছার আলী অংশ গ্রহন করে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। সম্মেলনে শহীদ হাসানুল বান্নার ছোট ভাই জামালুল বান্না আইআইসিলের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং মরক্কোর সাইয়্যেদ আল হাসান সাধারণ সম্পাদক এবং আমাদের ফেডারেশনের সভাপতি এড. শেখ আনছার আলী অন্যতম ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। অধ্যাপক মুজিবুর রহমান উক্ত সংগঠনের সম্মেলন উপলক্ষে পাকিস্তান, মালয়েশিয়া ও মরক্কো সফর করেন।

এপিও এনপিও জেপিসি এস ইউ আয়োজিত ২ দিন ব্যাপী গোল টেবিল বৈঠক অংশ গ্রহন-ন্যাশনাল প্রোডাষ্টিভিটি অর্গানাইজেশন (এনপিও) এর উদ্যোগে এবং এশিয়ান প্রোডাক্টিভিটি অর্গানাইজেশন (এপিও) ও জাপান প্রোডাষ্টিভিটি সেন্টার ফর সোসিও ইকোনোমিক ডেভেলপমেন্ট ডেপিসিএসইডি) এর যৌথ ব্যবস্থাপনায় ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রিজ এর মতিঝিলস্থ কনফারেন্স রুমে আয়োজিত ২ দিন ব্যাপী গোলটেবিল বৈঠকে ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক হারুনুর রশিদ খান অংশ গ্রহন করেন। বৈঠকে স্বাগতিক বাংলাদেশসহ জাপান, ইন্ডিয়াসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অংশ গ্রহন করেন।

দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন: শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন প্রতি ২ বছর পরপর দ্বি-বার্ষিক করে আসছে। বাংলাদেশ হওয়ার পরেও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন মতিঝিল সরকারী হাইস্কুল মাঠে ৩ বার দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন করেছিল। সেখানে সারাদেশ থেকে ৩ থেকে ৫ হাজার ডেলিগেট হিসাবে উপস্থিত ছিল। ইঞ্জিনিয়ারিং ইনিষ্টিটিউট মিলনায়তনে ৪ বার দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন হয়েছিল। এছাড়া মাহবুব আলী মিলনায়তনে, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনিষ্টিটিউট মিলনায়তনে, প্রেসক্লাব, বায়তুল মোকাররম মিলনায়তন, জাতীয় ক্রীড়া মাঠে দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতো। এসব সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মুহতারাম অধ্যাপক গোলাম আযম, মুহতারাম শহীদ মতিউর রহমান নিজামী, আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, শহীদ কামারুজ্জামন, শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লা, বিচারপতি বাকের ও বিচারপ্রতি আব্দুর রউফ এবং এসব সম্মেলনে বিদেশী মেহমানও আমন্ত্রন করা হতো। তুরস্কের লেবার ফেডারেশন হাকিস এর সহ-সভাপতি জনাব হোসাইন তানরী বাদরী ও পাকিস্তানের ন্যাশনাল লেবার ফেডারেশনের সভাপতি আব্দুল মালেক উপস্থিত ছিলেন।
দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন: ১৯৯১ সাল প্রধান অতিথি-মুহতারাম মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, উপস্থিত-২৫০০ জন। স্থান: ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তন।
দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন: ১৯ শে নভেম্বর- ১৯৯৩ সন, প্রধান অতিথি ছিলেন-অধ্যাপক গোলাম আযম, উপস্থিত- ৪ হাজার। স্থান: ইঞ্জিনিয়ার্স ইনিষ্টিটিউট।
দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন: স্থান-মাহবুব আলী ইনিষ্টিটিউট মিলনায়তন, প্রধান অতিথি-অধ্যাপক গোলাম আযম, বিশেষ অতিথি-মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, উপস্থিত- ৩ হাজার।
দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন: ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনিষ্টিটিউট মিলনায়তনে ১৯৯৯ এর ২২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন-মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, বিশেষ অতিথি ছিলেন-সাইয়্যেদ আল হাসান, সেক্রেটারী জেনারেল-আইআইসিএল। তিনি সম্মেলনে আইআইসিএল সভাপতি- জামালুল বান্নার লিখিত বক্তব্য পাঠ করে শুনান। সম্মেলনে ডেলিগেট উপস্থিত ছিল-২৮৩৩ জন।
দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন: ২০০১ সালের ৯ নভেম্বর মতিঝিল সরকারী হাইস্কুল ময়দানে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন- কৃষিমন্ত্রী মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, বিশেষ অতিথি ছিলেন-শ্রম ও জনশক্তিমন্ত্রী-আব্দুল্লাহ আল নোমান, সম্মেলনে ডেলিগেট উপস্থিত-৪৫০০ জন।
রাজপথে মিছিল ও র‌্যালী: বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উদ্যোগে শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যা, বিভিন্ন দিবস বিশেষ করে দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন উপলক্ষে রাজপথে বড় বড় মিছিল ও র‌্যালী রেব করা হতো।

মে দিবস: বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন মে দিবসকে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হিসাবে উদযাপন করে আসছে। এ উপলক্ষে রাজপথে মিছিল ও বিভিন্ন স্থানে আলোচনা সভা ও সেমিনার করা হতো।

অফিস পরিদর্শন: ১৯৯১ সালে মুহতারাম ফুয়াদ আব্দুল হামিদ আল খতিব-বাংলাদেশের সাবেক সৌদি রাষ্ট্রদূত, জনাব আতাউল্লাহ, কর্মকর্তা-ইসলামীক রিলিফ ইউকে এবং মিসেস ক্যাট ফিলিপস-কমনওয়েথ এর সাবেক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং প্রেসিডেন্ট ট্রেড ইউনিয়ন কাউন্সিল, (টক) ইউকে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মগবাজারস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয় ভিজিট করেন। এসময় ফেডারেশনের পক্ষ থেকে মেহমানবৃন্দকে ক্রেষ্ট প্রদান করা হয় এবং ফেডারেশনের কার্যক্রম সম্পর্কে লিখিতভাবে বিভিন্ন তথ্যাদি দেওয়া হয়।

জাতীয় ভিত্তিক আন্দোলন: লেবার কোড-৯৪ ঢাকায় অধ্যাপাক হারুনুর রশিদ খান এবং বিআরইএলের মির্জা মিজানুর রহমান অন্যতম সমন্বয়কারী এবং চট্টগ্রামে ফেডারেশনের বিআরইএল নেতা মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের খান, প্রধান সমন্বয়কারী হিসাবে লেবার কোড-৯৪ প্রতিরোধ সমন্বয় কমিটির দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ সালে লেবার কোড ৯৪ সংশোধনের উদেশ্যে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের পক্ষ থেকে সুপারিশমালা শ্রমমন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়। এই কমিটির সভাপতি ছিলেন আলমগীর মজুমদার।

Tripartite consultative committee (TCC) ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদ (মালিক, শ্রমিক ও সরকার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি): যার মাধ্যমে শ্রমিকদের সকল সমস্যা সমাধান কল্পে আইন তৈরীর পরমার্শ দেওয়া হয়। ১৯৯২ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ফেডারেশনের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি এডভোকেট শেষ আনছার আলী এবং ২০০২ সাল থেকে সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, (শ্রমিক, মালিক ও সরকার) এর একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। উক্ত কমিটি মালিক ও শ্রমিকদের সমঝোতা সৃষ্টি ও শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার হাছিল করার জন্য বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে থাকে।

শ্রম আদালত-শ্রমিক ও মালিকদের মধ্যে তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিরোধের মীমাংসা করে তাকে শ্রম আদালত ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক হারুনুর রশিদ খান ১৯৯৩-১৯৯৪ সালে প্রথম শ্রম আদালতে শ্রমিক পক্ষের সদস্য হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি ১৯৯৩-৯৪ সালে মোট ৬৯ টি অধিবেশনে অংশ গ্রহন করে অসহায় শ্রমিকদের পক্ষে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন।

শ্রমজীবি মানুষের কল্যাণে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সাথে সাক্ষাৎ: বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সাথে শ্রমিকদের সমস্যা মলিক শ্রমিকের সমন্বয় ও শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী, বিভিন্ন সংবাদপত্রের সম্পাদক ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সাথে শ্রমিক কল্যাণের প্রতিনিধি সাক্ষাত করেন।

শ্রম প্রতিমন্ত্রী লুৎফর রহমানের সাথে সাক্ষাৎ: ২০০২ সালের ২৮ মে কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ফেডারেশন নেতৃবৃন্দ সাক্ষাৎ করেন।

শিল্পমন্ত্রী এমকে আনোয়ারের সাথে সাক্ষাৎ: ২০০২ সালের ১৮ জুন ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ফেডারেশন নেতৃবৃন্দ শিল্পমন্ত্রী এমকে আনোয়ারের সাথে সাক্ষাৎ করে ১১ দফা সুপারিশমালা পেশ করেন।

যোগাযোগমন্ত্রী ব্যারিষ্টার নাজমুল হুদার সাথে সাক্ষাৎ: ২০০২ সালের ১৮ জুন কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক মজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ফেডারেশন নেতৃবৃন্দ সাক্ষাৎ করেন।

শ্রমিক দল সভাপতি ও খাদ্যমন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল নোমানের সাথে সাক্ষাৎ: ২০০২ সালের ১৪ জুলাই ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতির নেতৃত্বে শ্রমিক দল সভাপতি ও খাদ্যমন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল নোমান এর সাথে মতবিনিময় সভা করে আদমজী জুট মিলের শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা, বিরাজমান শ্রম সমস্যা, ন্যায় সংগত দাবী-দাওয়া আদায়ে যৌথ প্রচেষ্ঠা, ৪ দলীয় শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠকের প্রয়োজনীয়তা ইত্যাদি তুলে ধরেন।

পাকিস্তান রাষ্ট্রদূতের সাথে সাক্ষাৎ: ২০০২ সলের মে মাসে ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক হারুনুর রশিদ খান বাংলাদেশসহ পাকিস্তান রাষ্ট্র দূতের সাথে সাক্ষাৎ করে ফেডারেশনের কার্যক্রম সম্পর্র্কে লিখিত প্রতিবেদন পেশ করেন।

২০০২ সালে আদমজী জুট মিল বন্ধের সিদ্ধান্তে ফেডারেশনের তীব্র নিন্দা-এশিয়ার বৃহত্তম পাটকল আদমজী জুটমিল বন্ধের সরকারী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ফেডারেশন তাৎক্ষনিকভাবে সংবাদ পত্রের মাধ্যমে তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং মিলবন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবী জানান। এ সময় আদমজী শ্রমিক কর্মচারীদের ন্যায্য পাওনাদি পরিশোধের জন্য বিভিন্ন দাবী- জানিয়ে ২০০০০ লিফলেট ছাপিয়ে ফেডারেশনের পক্ষে বিতরণ করা হয়।

এছাড়া ২০০২ সালে ফেডারেশন নেতৃবৃন্দ ৯ জুলাই দৈনিক ইনকিলাব সম্পাদক বাহাউদ্দিন, ১১ জুলাই ২০০২ বাংলাদেশ অবজারবার সম্পাদক ইকবাল সোবহান, ২৪ জুলাই ২০০২ দৈনিক ইন্ডিপেন্ডডেন্ট সম্পাদক মাহবুব আলম এবং ২৮ জুলাই দৈনিক দিনকাল ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কাজী সিরাজ উদ্দিনের সাথে সাক্ষাৎ করে শ্রমজীবি মানুষের সমস্যা সমাধানের জন্য তাদের লিখনী তুলে ধরার আহবান জানান।

বিটিএমসি এবং বিসিআইসিসি চেয়ারম্যানের সাথে সাক্ষাৎ: ২০০২ সালের ৩০ অক্টোবর ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ফেডারেশন নেতৃবৃন্দ বিটিএমসি এবং বিসিআইসি চেয়ারম্যানদ্বয়ের সাথে সাক্ষাৎ করে বিটিএমসির আন্ডারে পরিচালিত বন্ধকৃত মিল কারখানা এবং বিসিআইসি পারিচালিত বন্ধকৃত বিভিন্ন কাগজকল, ম্যাচ এবং ব্যাটারী ফ্যাক্টরী চালু করার জোর দাবী জানান।

আইএলও পরিচালকের সাথে সাক্ষাৎ: ২০০২ সালের ২৮ শে অক্টোবর ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আইএলও বাংলাদেশস্থ পরিচালক জনাব গোপাল ভট্টাচার্যের সাথে সাক্ষাৎ করে ফেডারেশনের কার্যক্রম ও শ্রম সেক্টরে বিরাজমান বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। তিনি National Co-ordination Council for workers education (NCCWE) এই সংগঠনের মাধ্যমে আইএলও সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে শ্রমজীবি মানুষের পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষনের জন্য অর্থ প্রদান করে থাকে। কিন্তু আমাদের দেশে অধিকাংশ শ্রমিক সংগঠন বামপন্থী হওয়ার কারণে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনকে উক্ত সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। আইএলও এর প্রতিনিধিকে হিসাবে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনকে অন্তর্ভূক্ত করার জন্য আইএলও ডাইরেক্টরের দৃষ্টি আকর্ষন করা হয়।

শ্রমিক আন্দোলনে নেতৃবৃন্দের গুরুত্ব: শ্রমিক আন্দোলন যে কোন দেশে পরিবর্তনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ তাই সূচনাতেই মুল সংগঠন ২ জন ব্যারিষ্টার দ্বারা এ কাজ শুরু করেন। ১৯৭০ সনে ঢাকা রিক্সা কল্যাণ ইউনিয়নের উদ্যোগে পূর্ণ হরতাল সফল হয়। সে সময় জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী মরহুম আব্দুল খালেক সাহেব আমাকে অফিসে ডেকে নিয়েছিলেন এবং তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন একটি রিক্সাও রাস্তায় চলতে দেখি না। এ হরতাল কারা ডাকলো আমি জবাবে বলেছিলাম আমরাই এই হরতাল ডেকেছিলাম এবং আল্লাহর রহমতে সফল হয়েছি। তিনি খুশি হয়ে আমাকে সংগঠনের জন্য ৫ হাজার টাকা উপহার দিয়েছিলেন। মরহুম আব্বাস আলী আমাকে একদিন কেন্দ্রীয় অফিসে ডেকে নিয়ে যান এবং আমাকে বললেন তোমাদের শ্রমিক আন্দোলন কি রকমের চলছে। আমি জবাবে বললাম আল্লাহর রহমতে ভালই চলছে। তিনি তখন ভারপ্রাপ্ত আমীর। তিনি আমাকে পাল্টা প্রশ্ন করে বললেন আমি যখন উত্তরবঙ্গে যাই এবং আরিচা ঘাটে গাড়ী নিয়ে পৌছি তখনও কোন ড্রাইভার এসে আমার সাথে দেখা করে না। তাতে বুঝি তোমাদের আন্দোলন খুবই দুর্বল অর্থ্যাৎ তার সাথে সংগঠনের অনেকে দেখা সাক্ষাৎ করেন তাকে সংবর্ধনা দেন। কিন্তু তাতে তার মনের প্রশান্তি আসে না। কারণ তিনি মনে করতেন শ্রমিক আন্দোলন জোরদার না হলে আসলে কোন দেশের আন্দোলনই সফল হয় না। তাই তিনি বলিষ্ঠ শ্রমিক আন্দোলন না দেখে তার মনে কষ্ট লেগেছিল। আল্লাহ আমাদেরকে তার সেই মনের কষ্ট পূরণ করার তৌফিক দান করুন। আমি যখন সৌদি এয়ারলাইন্সে চাকুরী করি এবং আমার সহধমির্নী সৌদি একটি কলেজে অধ্যাপিকা ছিলেন তখন মরহুম অধ্যাপক গোলাম আযম সাহেব বললেন শ্রমিক আন্দোলনে লোকের অভাব। তোমার দেশে আসা খুবই প্রয়োজন। আমি তার নির্দেশে দেশে চলে আসি। বর্তমানে শ্রমিক সংগঠনের গুরুত্ব অনুভব করে মূল সংগঠন নায়েবে আমীরকে সভাপতি হিসাবে মনোনয়োন প্রদান করছে।

শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের আয়ের উৎস:
১. শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের অন্তর্ভূক্ত ইউনিয়নগুলোর চাঁদা।
২. শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সদস্যদের মাসিক চাঁদা।
৩. শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সুভাকাংখীদের দান।
৪. যাকাত সংগ্রহ।
৫. প্রকাশনার আয়।

শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সেবামূলক কাজ:
১. শ্রমিকদেরকে আইনী সহায়তা দান।
২. চাকুরীচ্যুত শ্রমিকদের চাকুরীতে পুর্নবহালের চেষ্টা।
৩. বেকার শ্রমিকদের চাকুরীর ব্যবস্থা করা।
৪. প্রশিক্ষনের মাধ্যমে বেকার শ্রমিকদের চাকুরীর জন্য সক্ষম করে তোলা।
৫. অসুস্থ শ্রমিকদের চিকিৎসার ব্যাপারে সহযোগিতা
৬. শ্রমিকদের সন্তানদের লেখা-পড়ার ব্যাপারে সহযোগিতা করা।
৭. শ্রমিকদেরকে বিনামূল্যে কুরআন শিক্ষা প্রদান করা।
৮. বস্তিতে শ্রমজীবি মানুষের সন্তানদের বিনামূল্য লেখা-পড়ার ব্যবস্থা করা।
৯. শ্রমজীবি মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ করা।
১০. অসহায় শ্রমিকদের দাফন-কাফনে সহযোগিতা করা।
১১. বন্যা দুর্ঘটনা এলাকায় শ্রমিকদের মধ্যে রিলিফ বিরতণ করা।
১২. দুই ঈদে শ্রমিকদের মধ্যে ঈদ সামগ্রী বিরতণ করা।